ঢাকা, বাংলাদেশ │ শনিবার, ২৮ মে ২০২২
প্রচ্ছদ » রাজনীতি » রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরানো বন্ধ করুন: বিএনপি

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরানো বন্ধ করুন: বিএনপি

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম-জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির মুখে এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নকে আত্মহননের প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে কমিটি। এর ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের দাবি দুর্বল হবে বলে মনে করছে কমিটি।

অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে জাতিসংঘের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানায়।

রোববার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী কমিটির এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শনিবার স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল এ সভা হয়।

এতে বলা হয়, সভা পর্যবেক্ষণ করেছে- আওয়ামী লীগ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সমস্যাটি কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুধু বিলম্বিত নয়- অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের ব্যবস্থা মিয়ানমারের অবস্থান দৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সভা জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবণ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের স্বার্থে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ এবং মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানায়। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে।

এ ছাড়া সভায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস দ্বিতীয় দফায় আরও মারাত্মকভাবে সংক্রমণের ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাবেশ পরিহার করে সব কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

মহান বিজয়ের মাসে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে ঢাকা মহানগর পুলিশ যে নির্দেশ জারি করেছে- তার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আবারও কালিমালেপন। নিজেদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে এ ধরনের নির্দেশ প্রদান করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ ধরনের নির্দেশ গণতান্ত্রিক পরিসরকে আরও সংকুচিত করবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়। তাই এ ধরনের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও সভায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ২১ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অন্তর্ভুক্তি এবং গত ৫ বছরে প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা লুটপাটের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার জন্য নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সংস্থা কর্তৃক একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুতের আহ্বান জানানো হয়।

মতামত দিন