ঢাকা, বাংলাদেশ │ মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২
প্রচ্ছদ » রাজনীতি » মালিকদের স্বার্থে বাড়ানো হয়েছে বাস ভাড়া: ফখরুল

মালিকদের স্বার্থে বাড়ানো হয়েছে বাস ভাড়া: ফখরুল

করোনা সংকটকালীন বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তার সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেছেন, বাস মালিকদের স্বার্থেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে দুই মাসেরও বেশি সময় বাস বন্ধ থাকে। ৬৭ দিন পর আজ থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাস-মিনিবাস চলাচল শুরু হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পরে তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা অমানবিকতা। কম আয়ের মানুষই বাসে ওঠে। কার স্বার্থে বাস ভাড়া বাড়িয়েছে? মালিকদের স্বার্থে। মালিকদের আবার অনুদান দিচ্ছে। পুরো বিষয়টা হয়েছে লুটপাটের জন্য।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শুরু থেকে সরকারের সব পদক্ষেপই ভুল ছিল উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বারবার করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এবং তাঁদের নিয়োজিত পরামর্শক কমিটিই বলেছে, আরও কিছু দিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকও বলেছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ট্রেন, বাস, লঞ্চে মানুষ গাদাগাদি করে উঠছে। বাংলাদেশে গণপরিবহন এই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। আরও সময় নিতে পারত।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দায়িত্বশীলতা নেই বলেই সরকার তুঘলকি কারবার করছে। জনগণকে মহা বিপদের দিকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতা। মনেই হয় না যে সরকার আছে। একেক বিভাগ একেক রকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। সরকারের একলা চলো নীতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

সিকদার গ্রুপের দুই ভাইয়ের দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার কোথায়? আজকে এই কারণেই দেশ ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে।’

কৃষকের সমস্যা সমাধানে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক গতবছর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ফসলে আগুন দিয়েছে আর এ বছর করোনায় দাম না পেয়ে ফসল ফেলে দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের কোনো প্রকার পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে কৃষকরা যখন ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে ধান কাটা কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় কৃষক দল। সারাদেশের কৃষক দলের নেতাকর্মীরা ধান কেটে মাড়াই করে কৃষকের ঘরে তুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে সরকারদলীয় কাণ্ডজ্ঞানহীন নেতারা কৃষকের ধান কাটার নাম করে যে বিশৃঙ্খলা করেছেন তা সারা দেশের মানুষ দেখেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উচিত মধ্যবিত্তের কাছ থেকে ধান না কিনে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা এতে কৃষক লাভবান হবে। মধ্যপাড়া কৃষকের ধান চাল বানিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রি করে।

মতামত দিন