ঢাকা, বাংলাদেশ │ শনিবার, ২৮ মে ২০২২
প্রচ্ছদ » সারা বাংলা » ভারত-বাংলাদেশিদের যাতায়াতে নতুন শর্ত

ভারত-বাংলাদেশিদের যাতায়াতে নতুন শর্ত

যশোর প্রতিনিধি: চিকিৎসা, ব্যবসা বা ভ্রমণ যে কোনও কারণে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করতে হলে উভয় দেশের পাসপোর্ট যাত্রীদের কয়েকটি নতুন শর্ত এখন থেকে মানতে হবে। তবেই উভয় দেশে প্রবেশে মিলবে অনুমতি।

বাংলাদেশিরা চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য ভারতে যেমন যান তেমনি ভারতীয়রা ব্যবসা, ভ্রমণ ও আত্মীয়স্বজনের দেখতে এদেশে আসেন। ভারত ও বাংলাদেশ দুই বন্ধু দেশে নাগরিকদের যাতায়াতে তেমন কোনও বাধা ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতি আলাদা। করোনার আবহে তাই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত অবাধ থাকলেও কয়েকটি শর্ত মানতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে শর্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি মহাসিন কবির।

নতুন শর্তের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট ও ২০২০ সালের ১ জুলাই ইস্যুকৃত ভিসা থাকতে হবে। সেই সাথে ভারতীয় হাই-কমিশনের অনুমতিপত্র। যাত্রীর সঙ্গে থাকতে হবে কোভিড-১৯ এর নেগেটিভ সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হতে হবে। তবেই ভারতে প্রবেশের ছাড়পত্র পাবেন যে কোনও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী।

অপরদিকে, ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে হালনাগাদ পাসপোর্ট, ভিসার পাশাপাশি ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পত্র ও কোভিড-১৯ এর নেগেটিভ সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হতে হবে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে হবে। তারপরই বাংলাদেশে প্রবেশের ছাড়পত্র মিলবে যেকোনও ভারতীয়র।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রী আটকে রয়েছেন বাংলাদেশে। লকডাউনের জেরে দেশে ফিরতে পারেননি তারা। অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়েছে। তাদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও রয়েছে নতুন শর্ত।

যেখানে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা নবায়ন (জরিমানা ব্যতীত ভিসা ও ফি প্রদান পূর্বক) ভারতীয় হাই কমিশনের অনুমতি পত্র ও কোভিক-১৯ এর নেগেটিভ সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হতে হবে।

জানা যায়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধে দুই দেশের সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে ভারত সরকারের নেয়া পদক্ষেপে গত ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারত প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবার তাদের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভারতে আটকে থাকা কয়েক হাজার বাংলাদেশি স্থল ও আকাশ পথে ফিরে আসেন। একইভাবে অনেক ভারতীয়ও ফিরে যায়।

এছাড়া ২২ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের রেল ও স্থল পথে ভারত সরকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। রেল ও স্থল পথে আমদানি রফতানি বাণিজ্য সচল হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। এখন শর্ত সাপেক্ষে চালু হলো যাত্রীদের যাওয়া-আসা।

করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতে বিভিন্ন দেশ এখনও ভিনদেশীদের প্রবেশ অবাধ করেনি। কয়েকটি দেশ শর্ত সাপেক্ষে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি মহাসিন কবির জানান, বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ, ভারতীয়দের বাংলাদেশ ভ্রমণ বা বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে তারা যাতায়াত করতে পারবেন।

মতামত দিন