নেত্রকোনায় আ.লীগ প্রার্থীসহ ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নেত্রকোনার দুটি ইউনিয়নে ১০ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জামানত বাজেয়াপ্তদের তালিকায় পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. ছাদেক মিয়াও রয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১০-এর ৪৪-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জেলার খালিয়াজুড়ী সদর ও মেন্দিপুর এবং পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে খালিয়াজুড়ী সদরে বৈধ ভোট ৮ হাজার ১০৮টি, মেন্দিপুরে বৈধ ভোট ১২ হাজার ৯০০টি এবং ধলামূলগাঁওয়ে বৈধ ভোট ১৬ হাজার ৩৮টি। তিনটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ধলামূলগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অন্তত ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ছাদেক মিয়া নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫৪ ভোট, মো. রুবেল মিয়া রজনীগন্ধা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২৮ ভোট, মো. রহুল আমিন টেবিল ফ্যান প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭৭ ভোট ও মো. শেখ বিজয় ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭৪ ভোট।

মেন্দিপুরে আজাহারুল ইসলাম দুটি পাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ ভোট, আবদুল জলিল আনারস প্রতীকে ৯১, অটোরিকশা প্রতীকে পরিতোষ সরকার পেয়েছেন ৫২ ভোট, টেবিল ফ্যান প্রতীকের মো. এরশাদুল আলম পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট, মো. সাইফুল ইসলাম টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮৬ ভোট এবং ঢোল প্রতীকে হাইউল মিয়া পেয়েছেন ১০১ ভোট।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল লতিফ শেখ ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়। সেই জামানতের টাকা ফেরত পেতে ওই ইউনিয়নের মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে হয়। যেসব প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট পাবেন না, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ধলামূলগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ছাদেক মিয়া বলেন, দলের নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান করায় আমার এই পরাজয় হয়েছে। ইউনিয়নে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, এর মধ্যে আটজনই বিদ্রোহী। দলীয় নেতাকর্মীরা কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে পছন্দের বিদ্রোহীদের মদদ দিয়েছেন। তাই নির্বাচনে আমার এই বিপর্যয় বলেও জানান তিনি।
তবে নেতাদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জানতে পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের টানা তিনবারের সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (বীর প্রতীক) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন বলেন, মো. ছাদেক মিয়ার কথা সত্য নয়। দলের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। নৌকার পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন। জনগণ যাকে পছন্দ করেছেন তাকেই নির্বাচিত করেছেন।

উল্লেখ্য, নেত্রকোনার ৮৬ ইউনিয়নের মধ্যে ৪১ স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

মতামত দিন