
কেনেথ ইউজিন স্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশটির আলাবামা রাজ্যে কেনেথ ইউজিন স্মিথ নামের এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রায় এভাবে কার্যকরের কথা রয়েছে।
১৯৮৮ সালে এক ধর্মপ্রচারকের স্ত্রীকে হত্যা করে স্মিথ ও জন ফরেস্ট পার্কার নামের দুই ব্যক্তি। তাদের ১ হাজার ডলার দিয়ে ভাড়া করা হয়েছিল। ২০১০ সালে পার্কারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
আলাবামার হোলম্যান কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আটক ৫৮ বছর বয়সি স্মিথকে ১৯৮৯ সালেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তার আইনজীবীদের আপিলের মুখে তা এতদিন ঠেকিয়ে রাখা গেছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও স্থানীয় এক আপিল কোর্ট স্মিথের আপিল বাতিল করে দিয়েছেন। আদালত বলছেন, কোনো বিচারক স্মিথের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধী করেননি।
কিন্তু স্মিথের আইনজীবীরা বলছেন, নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি। এটা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী। তাই তারা শেষ মুহূর্তে ফের আপিল করবেন।
জানা গেছে, একটি বিশেষ মাস্কের মাধ্যমে স্মিথের শরীরে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট নাইট্রোজেন প্রবেশ করা হবে। এতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার বমি শুরু হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হতে পারে। এটাকে তুলনামূলকভাবে মানবিক মৃত্যুদণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। দেশটিতে এতদিন পর্যন্ত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। কিন্তু এতে করে অনেক সময় আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সম্ভব হতো না। তাই নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
নাইট্রোজেন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
সূত্র : বিবিসি


