

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়োপযোগী নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। তবে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলা।
সম্প্রতি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলনে টেকসই শিল্পোন্নয়নের বিষয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। গত শনিবার গণভবন থেকে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ ও সদস্য সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও উপস্থাপনা প্রদর্শিত হয়।
‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২১’ এ দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পউদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। ৩ জন নোবেল বিজয়ী ও ৬ জন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দুটি সাইড ইভেন্ট ‘মুজিব-১০০ আইডিয়া কনটেস্ট’ এবং ‘মুজিব-১০০ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিবিট’ অনুষ্ঠিত হয়।
১৭টি দেশ থেকে মোট ৫২৫টি গবেষণাপত্র জমা হয়েছে এবং তার মধ্য থেকে ১০০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া সহস্রাধিক আইডিয়া থেকে ১০টিকে সেরা হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, যারা প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার পাবেন।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে তিনটি বিষয়কে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পের বিকাশ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী বাহিনী সৃষ্টি ও পরিবেশ সংরক্ষণ।
প্রায় ১০০ বছর পরপর শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিবর্তনের বিষয়টি লক্ষণীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় অতিক্রম করে আমরা আজ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। এ পর্যায়ে সাশ্রয়ী এবং সবুজ ভ্যালু-চেইন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পৃথিবী আজ দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে- একদিকে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী ও সহজে ব্যবহারকারী সম্পদশালী দেশগুলো এবং অন্যদিকে, ওই ক্ষেত্রে বিনিয়োগে অক্ষম রাষ্ট্রপুঞ্জ।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পর এখন আমরা ‘উদ্ভাবনী বাংলাদেশে’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সালের মধ্যে যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছি, সেটিই হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ।


