গভীর রাতে ‘অদ্ভুত শব্দ’, ভূত আতঙ্কে মেয়েরা

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিছুদিন ধরে গভীর রাতে ছাত্রী হোস্টেলে ‘অদ্ভুত শব্দ’ কে করে? হোস্টেলে থাকা ছাত্রীদের কানে গভীর রাতে ভেসে আসে এমন ‘অদ্ভুত শব্দ’। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ছাত্রীরা।

ছাত্রীদের ধারণা, অদৃশ্য ভূত এসব অদ্ভুত শব্দ করছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ভূতের ভয়’ দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করতে সেখানে হুজুর ডেকে এনে মিলাদও পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূত নয়, গভীর রাতে এসব ‘অদ্ভুত শব্দ’ করছে বখাটেরা। এসব বখাটের বেশিরভাগই মাদকসেবী।

সরেজমিনে নগরীর চর্থা এলাকায় অবস্থিত কলেজটিতে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজটির দক্ষিণে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়। কলেজের পশ্চিম দিকের রাস্তা রানীর দিঘী হয়ে চলে গেছে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের দিকে। কলেজের একটু পশ্চিমেই সালাউদ্দিন মোড়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ কলেজ সব সময় আলো ঝলমল থাকে। এরপরও সেখানে শিক্ষার্থীরা ‘ভূতের ভয়ে’ রাত কাটাচ্ছেন। কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস, হাবিবা আক্তার জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে কলেজ হোস্টেলের মেয়েদের মধ্যে ভূতের আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাত হলে তারা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পান। এ আওয়াজ সহজে বন্ধ হয় না। অদ্ভুত শব্দে গা শিউরে ওঠে ছাত্রীদের। আওয়াজ শুরু হলে রাতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে বসে থাকে। এ অবস্থা চলতে থাকার এক পর্যায়ে ১০ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় হুজুর ডেকে এনে হোস্টেলে মিলাদ পড়ানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোস্টেলের একটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। নড়বড়ে ভবনে বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে। বাতাস ও ভূমিকম্প হলে সবাই আঁতকে ওঠে। কলেজ এবং ছাত্রীদের হোস্টেলগুলো একই আঙিনায়। ছাত্রীদের হোস্টেলের পূর্বদিকে কলেজের সীমানা প্রাচীরের বাইরে বখাটেদের আনাগোনা আছে। কলেজের পূর্ব পাশের সড়কে প্রায়ই প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করে বখাটেরা। রাতেও সেখানে তাদের উৎপাত থাকে।

চর্থা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, কলেজের পূর্ব পাশে ছাত্রীদের হোস্টেলগুলো অবস্থিত। সেদিকটায় সীমানা প্রাচারীর থাকলেও অনেক স্থানে প্রাচীরের ওপর তারকাঁটার বেড়া নেই। যার কারণে গভীর রাতে প্রাচীর টপকে বখাটেরা কলেজ আঙিনায় ঢুকে পড়ে। তারা সেখানে নিরাপদে মাদক সেবন করে। গভীর রাতে তারা অনেক সময় মাদক সেবন করে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। আমাদের ধারণা, নেশাগ্রস্তরা ছাত্রীদের ভয় দেখাতে এসব করছে।

হোস্টেলের কয়েকজন ছাত্রী জানান, করোনাকালে তাদের হোস্টেল বন্ধ ছিল। হোস্টেল চালু হলে অনেক শিক্ষার্থী এসে দেখেন অনেকের জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। পরে বেশ কয়েকজন ছাত্রী কলেজ অধ্যক্ষের কাছে এ সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। তাদেরও ধারণা, ছাত্রীদের ভয় দেখাতে মাদকসেবীরা এমন কাণ্ড করছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক জামাল নাছের বলেন, মেয়েরা রাতে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় বলে আমাকে জানিয়েছে। তাই মিলাদ পড়ানো হয়েছে। বখাটেরা সীমানা প্রাচীরের বাইরে কী করে, সেটা আমি জানি না। আমাদের কলেজ সুরক্ষিত আছে। এই আধুনিক যুগে ভূতের ভয় এটা হাস্যকর ব্যাপার। গভীর রাতে অনেকেরই মনে ভয় কাজ করে।

মতামত দিন