
সালমান এফ রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ও ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিতর্ক ও অনিয়মের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে সালমান এফ রহমানের নাম। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
শেয়ারবাজারে নানা ধরনের কৌশল ও আর্থিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বহুবার উঠেছে। বিভিন্ন সময় বন্ড, প্রেফারেন্স শেয়ার এবং অন্যান্য আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা আলোচিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০০৬ সালে একটি বিতর্কিত ঘটনার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। একইভাবে ২০১০-১১ সালের শেয়ারবাজার অস্থিরতার সময়ও তার নাম তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে। বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার ইস্যু ও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও আলোচনায় ছিল।
ব্যাংক খাতেও তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ, পুনঃতফসিল এবং খেলাপি হওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে একটি গ্রুপকে অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনুমোদনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, ভুয়া নথি ব্যবহার এবং ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। অতীতে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত তদন্তেও এসব বিষয় আলোচনায় আসে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার ভূমিকায়ও ছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে, যদিও এসব বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন মত রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। উদাহরণ হিসেবে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগ বাতিল হয় ঋণ খেলাপির কারণে।
সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজার ও ব্যাংক খাতে দীর্ঘ সময় ধরে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং তদন্তের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলিই এখনও বিচারাধীন বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


