মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন পুলিশ কনস্টেবল সামাদ

৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন পুলিশ কনস্টেবল সামাদ

৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করায় পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সামাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তার সহকর্মীরা। ছবি: বাংলার শিরোনাম

বগুড়ায় আব্দুস সামাদ ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে চমকে দিয়েছেন। পেশায় ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল হলেও তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হওয়ার।

তিনি এ বছর নাটোর জেলার মহরকয়া নতুনপাড়া কারিগরি ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ পেয়েছেন।

চাকরি শেষ হওয়ার ঠিক ২ বছর ১০ মাস আগে পুলিশ সদস্যের এমন সাফল্যে খুশি জেলা পুলিশের সকল সদস্য। খুশি হয়েছেন তার পরিবারের লোকজনও।

চাকরি শেষে হোমিও চিকিৎসায় যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সামাদ। কিন্তু, সেই কোর্সে ভর্তি হতে তার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নেন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সেই লক্ষ্যে ২০২২ সালে তিনি নাটোর মহর কয়া নতুনপাড়া কারিগরি ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেই ইন্সটিটিউট থেকেই এ বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং জিপিএ -৪ দশমিক ২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদ জানান, পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় ৮ম শ্রেণি পাশ করেই পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন তিনি। তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপর ছোট থেকেই দুর্বলতা ছিল। অবসরে যাওয়ার পর যেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করে সবার সেবা করতে পারেন তাই চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা করতেন।

কিন্তু, হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার কোর্সে ভর্তি হতে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট লাগে। তাই ২০২২ সালে সিদ্ধান্ত নেন এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার৷ অতঃপর নাটোরে একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। সেখান থেকে এ বছর এসএসসি পাশ করেছি।

তিনি আরও বলেন, তার এই বয়সেও পরিবার ও ডিপার্টমেন্ট তার লেখাপড়ায় অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমার ১’শ বছর বয়সী মা বেঁচে আছেন। আজ যখন তিনি পাশ করেছেন তখন তার মা এই সফলতার কথা শুনে অনেক খুশী হয়েছেন। এই যাত্রা শুরু করার সময় অনেকেই অনেক কটু কথা বলেছেন। কিন্তু পরিবার ও ডিপার্টমেন্ট এর উৎসাহে তিনি পিছ পা হননি।

এ বিষয়ে বগুড়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ট্রাফিক) সুমন জানান, সামাদের এই সফলতাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি এই বয়সে এসেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে চান, তিনি তার এই আলোকিত হওয়ার উদ্দেশ্যকে সাধুবাদ জানান এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন।

উল্লেখ্য, আব্দুস সামাদ ১৯৬৮ সালে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ১৯৮৭ সালে ৮ম শ্রেণি পাশে বাংলাদেশ পুলিশে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদান করেন।

চাকরিসূত্রে তিনি বগুড়ার শেরপুর, সদর ও নন্দীগ্রাম ডিএসবি, সদর কোর্ট এবং সর্বশেষ বগুড়া ট্রাফিকে কর্মরত আছেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে ও মেয়েদের করেছেন উচ্চ শিক্ষিত।

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন

বাংলার শিরোনাম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ সংবাদ