মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

হামাস মানলে ইসরায়েলও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেবে বলে আশা যুক্তরাষ্ট্রের

হামাস মানলে ইসরায়েলও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেবে বলে আশা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন

গাজায় চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে নতুন যে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, হামাস রাজি থাকলে ইসরায়েলও সেটি মেনে নিবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন করবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন।

সেখানে বলা হয়েছে যে, মোট তিন ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, যার প্রথম ধাপ শুরু হবে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে।

ওই সময়ে গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের সরিয়ে নেয়া হবে। দেওয়া হবে মানবিক সহায়তা। একই সঙ্গে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যে বন্দী এবং জিম্মি বিনিময় হবে বলেও পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবে ইসরায়েল রাজি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য ইতোমধ্যেই প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি এমন একটি সময়ে দেওয়া হলো যখন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজার রাফাহ শহরে বিমান হামলা জোরদার করেছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র দেওয়া তথ্যমতে, হামলার মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার পরে রাফাহ’র ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের সবক’টি এখন খালি পড়ে রয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্য গাজার কিছু অংশ এবং খান ইউনিস শহর মিলিয়ে আরও অন্তত ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র মি. করবি বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস রাজি হলে ইসরায়েলও “হ্যাঁ বলবে”।

“আমরা এখন হামাসের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি,” বলেন মি. করবি।

ইসরায়েল ও হামাস, উভয়পক্ষই “যত দ্রুত সম্ভব” ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ কার্যকর করতে সম্মত হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন করবি আরও আশা করছেন যে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালে উভয়পক্ষই বৈঠকে বসবে।

“দুই পক্ষই এই সময়ে বৈঠকে বসবে এবং আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি কেমন হবে এবং কখন সেটি শুরু করা যাবে,” বলেন মি. করবি।

এ দফায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাস রাজি হবে বলে আশা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

কেননা, দেশটির গোয়েন্দারা মনে করছেন যে, হামাস সামরিকভাবে আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কাজেই তারা গত সাতই অক্টোবরের মতো আরেকটি হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারবে না।

“আমরা বলছি না যে, তারা (হামাস) এখন আর ইসরায়েলি জনগণের জন্য কোনও হুমকি না। অবশ্যই তারা হুমকী,” বলেন মি. করবি।

“কিন্তু তারা (অতীতে) যে কাজ করেছে, সেটি করার সামরিক সক্ষমতা (এখন) তাদের নেই,” যোগ করেন মি. করবি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবটি সবিস্তারে তুলে ধরেন।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে একটি “পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি” হবে।

একই সঙ্গে জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের জিম্মি বিনিময়ের মতো বিষয়গুলোও সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

মি. বাইডেন আরও বলেন যে, এটা সত্যিকার অর্থেই একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। হামাস সবসময় বলে তারা যুদ্ধ বিরতি চায়। তাহলে তারা এই চুক্তি মানে কী না সেই বক্তব্য প্রমাণ করার এটি একটি সুযোগ।

এই যুদ্ধবিরতি গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়াসহ, বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে আরো মানবিক সহযোগিতা পৌঁছানোর অনুমতি দেবে বলেও জানান মি. বাইডেন।

এই চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে সৈন্যসহ ইসরায়েলের জীবিত সব জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা হবে। আর এর মাধ্যমেই ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার শত্রুতার স্থায়ীভাবে অবসান ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিতে শুক্রবার হামাসের প্রতি আহবান জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হামাসও প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

সুত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন

বাংলার শিরোনাম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ সংবাদ