ঢাকা, বাংলাদেশ │ শনিবার, ২৮ মে ২০২২
প্রচ্ছদ » বিনোদন » সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের আগেই শুরু হয়ে গেছে সিনেমার শুটিং

সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের আগেই শুরু হয়ে গেছে সিনেমার শুটিং

গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে অন্য অঙ্গনের মতো সিনেমার শুটিংও বন্ধ করা হয় করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য। এরপর থেকেই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে সিনেমাপাড়া। জনশূন্য হয়ে পড়ে এফডিসিসহ শুটিং সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো।

তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনয়শিল্পী কলাকুশলীরা ভালো থাকলেও ভালো নেই এ অঙ্গনের দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা মানুষরা।

তবে আশার কথা হল সরকারিভাবে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের মাধ্যমই সচল করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নাট্যাঙ্গনের শুটিং শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এখন চলচ্চিত্রকর্মীরাও মুখিয়ে আছেন যে এ অঙ্গনে কবে কাজ শুরু হবে কিংবা দায়িত্বশীলরা কি সিদ্ধান্ত নেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এ বিষয়ে সক্রিয় হচ্ছে।

জুনের প্রথম সপ্তাহেই তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে একটি কর্মপন্থা তৈরি করার চেষ্টা করবেন।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমরা আনঅফিসিয়ালি ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করে দিয়েছি। কিভাবে কাজ শুরু করা যায়, এ বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করছি। আশা করছি জুনের প্রথম সপ্তাহে আমরা মিটিং করে কার্যতালিকা তৈরি করব। তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না কাজের জন্য। আর সামাজিক দূরত্ববজায় রেখে কী শুটিং করা সম্ভব হবে, এ নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। মাস্ক পরে তো আর শুটিং করা যাবে না। এসব বিষয় নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করছি।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কেউ যদি শুটিং করতে চান, তাহলে আমরা বাধা দেব না। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা
মেনেই কাজ করতে হবে। আমরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করছি। সবার সঙ্গে কথা বলেই একটি কর্মপন্থা প্রস্তুত করব।’

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি আগে কাজ শুরুর পরিবেশ তৈরি করুক। তাদের কর্ম পরিকল্পনা দেখে আমরা
সিদ্ধান্ত নেব। আমরা তো শিল্পী। তাই শিল্পীরা তো আগে থেকে কিছু করতে পারে না। যেভাবে ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে করে সামনে আরও জটিল অবস্থা তৈরি হতে পারে। সেদিকেই মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার। বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক কাজ করা যাবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে এ ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করেন।’

এদিকে সমিতিগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই কেউ কেউ শুটিং শুরু করে দিয়েছেন এবং দিন তারিখ ঠিক করে শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে নির্মাতা অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী ও চিত্রনায়িকা অধরা খানকে নিয়ে ২৯ মে থেকে একটি ছবির শুটিং শুরু করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিন দিন শুটিংও করেছেন। ‘কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ ছবিটি তিনি করোনা নিয়েই বানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে চিত্রপরিচালক অনন্য মামুন ৬ মে থেকে বড় পরিসরে নতুন ছবিরশুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্যসুরক্ষার সববিধি মেনেই শুটিং করব। এ নিয়ে অন্যদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিজ দায়িত্বেই শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ দুই নির্মাতারমতো আরও অনেকেই শুটিং শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীরাও আছে দোটানায়। কর্মহীন হয়ে বসে থাকার কারণে অন্য সমস্যার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করছে।
তবে প্রতিষ্ঠিত বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পীই এখনই কাজে ফিরতে চান না।

এ বিষয়ে চিত্রনায়ক ইমন বলেন, ‘আমি আগামী এক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চাই। যদি দেখি যে কাজের পরিবেশ নিরাপদ আছে, তখন হয়ত কাজে ফেরার
বিষয়টিকে গুরুত্ব দেব। তবে এখন এ নিয়ে কোনো সম্ভাবনাই নেই আমার। কাজের থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। কারণ দিনশেষে আমাকে বাড়িতে ফিরতে হয়। সেখানে আমার পরিবার আছে। তাদের বিপদের মুখে ফেলতে চাই না। তাই অন্তত আমি এখনই অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছে নেই।’

চিত্রনায়ক নিরবও এ মুহূর্তে অভিনয়ে ফেরার ব্যাপারে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,‘অনেক ছবির কাজ অসমাপ্ত থাকলেও আমার কাজে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই এখনই। বাড়িতে মা অসুস্থ। আমার বউ ও সন্তান আছে। ওদের জীবনকে তো হুমকির মুখে ফেলতে পারি না। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আর কাজে ফিরতে চাই না।’

মতামত দিন