মিয়ানমারে জান্তা ভয়ে সন্তানদের অস্বীকার করছে পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়ে জান্তাবিরোধী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করছে বেশিরভাগ পরিবার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিচ্ছে তারা। তবে, বিজ্ঞপ্তি দিলেও জান্তাবিরোধীদের সহায়তার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেশটির সেনাবাহিনীর।

মিয়ানমারে গত ৩ মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ৬-৭টি পরিবার তাদের ছেলে, মেয়ে, ভাতিজি, ভাগ্নে এবং নাতি-নাতনিদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে। প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার যারা বিরোধিতা করেছে তাদের নাম উল্লেখ করেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে পরিবারগুলো।

গত নভেম্বরে দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা বিরোধীদের সম্পত্তি দখল করবে এবং বিক্ষোভকারীদের আশ্রয় দেয়া লোকদের গ্রেপ্তার করবে। ঘোষণা দেয়ার পর বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাতে শুরু করে সেনাবাহিনী। তখন থেকেই পরিবারগুলো নোটিশ দেয়া শুরু করেছে।

বিরোধীদের পরিবারকে টার্গেট করা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি কৌশল, যা ১৯৮০ ও ২০০৭ সালে দেশটিতে অস্থিরতা চলার সময় ব্যবহার করা হয়। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ কৌশলের প্রয়োগ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমক্ষে পরিবারের সদস্যদের অস্বীকার করা মিয়ানমারের সংস্কৃতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস। পরিবারগুলো গ্রেপ্তার ও বিপদ এড়াতে এটির ব্যবহার করে থাকে।

এদিকে সেনাবাহিনী বলছে, যারা এরইমধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও যদি জান্তা বিরোধীদের সহায়তার প্রমাণ পাওয়া যায়, কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে গত বছর মিয়ানমারের লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে, যার অধিকাংশই তরুণ। সেনাবাহিনী তাদের ওপর হামলা চালালে কেউ বিদেশ চলে যায়, কেউ যোগ দেয় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সশস্ত্র দলে।

দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত এক বছরে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী, নিহতদের অধিকাংশ বিক্ষোভকারী। তাছাড়া, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২ হাজার মানুষকে। যদিও সেনাবাহিনী বলছে, এ সংখ্যা অতিরঞ্জিত।

মতামত দিন