রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৩ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৩ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তিন মাসের মধ্যে যথাযথ আদালতে জমার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) তিনটি মামলায় বেসিক ব্যাংকের জিএম মোহম্মদ আলীর জামিন প্রশ্নে রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর উচ্চ আদালতে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।

বাংলার শিরোনাম‘কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম আবুল হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন।

পরে একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় করা ৫৬ মামলার মধ্যে ১২ মামলার আসামি ব্যাংকটির সাবেক জিএম মোহাম্মদ আলী। এর মধ্যে তিন মামলায় জামিন চেয়েছেন তিনি।

জামিন শুনানিতে ৮ নভেম্বর হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই অনুসারে এ প্রতিবেদন দেয় দুদক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় ২ হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ৯৯১ টাকা, যা সুদসহ ২ হাজার ৫৯০ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মোট ৫৬টি মামলা করে। এসব মামলায় ৮২ জন ঋণগ্রহীতা ছাড়াও বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফকরুল ইসলাম, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, সাবেক ডিএমডি শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, জিএম এ. মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ ২৭ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখা, প্রধান শাখা, দিলকুশা শাখা এবং শান্তিনগর শাখাসহ মোট চারটি শাখার ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে গুলশান থানায় ২৩টি, মতিঝিল থানায় ১২টি ও পল্টন থানায় ২১টিসহ মোট ৫৬টি মামলা করা হয়। মামলায় বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা ২৭, ব্যবসায়ী ৮২ ও বেসরকারি সার্ভেয়ার ১১ জনসহ মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন আছে। মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো আত্মসাত করা অর্থ সম্পূর্ণরূপে নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে টাকার অবস্থান গোপন করা হয়েছে। মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের জবানবন্দি গ্রহণ (১৬১ ধারায়) কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সব সাক্ষীর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বর্ণিত মামলায় আলামত প্রচুর ও ব্যাংকের বিশাল পরিমাণ কাগজপত্র থেকে প্রকৃত সব আলামত শনাক্ত করা সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া প্রকৃত আসামি শনাক্তের প্রক্রিয়াটিও এ মামলায় বেশ জটিল। মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ায় এমএলএআর করা হয়েছে। ওই সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও আলামত এখনও পাওয়া যায়নি।

এতে আরও বলা হয়, মামলাগুলোর আগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বদলি সূত্রে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলোর তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। আসামি ও আলামত শনাক্ত করা, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ ও এমএলএআরের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে মামলার প্রয়োজনীয় আলামত পাওয়া সাপেক্ষে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ করে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন

বাংলার শিরোনাম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ সংবাদ