রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রত্যাশা আর মানবতার জয়গানে রমনার বটমূলে বরণ করা হলো নববর্ষ

প্রত্যাশা আর মানবতার জয়গানে রমনার বটমূলে বরণ করা হলো নববর্ষ

ই বছর পর আবারো ছায়ানটের আয়োজনে শুরু হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ছবি: ছবি সংগৃহীত

ভোরের প্রথম সূর্য উদয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে বাংলা ক্যালেন্ডারের নতুন আরেকটি বছর। কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে একটি বছর। প্রতিবছরই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে চলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার নানান যজ্ঞ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালিরা মেতে ওঠে নব আনন্দে নতুনকে বরণ করে নেওয়ার এক উৎসবে। রমনার বটমূল থেকে গান-কবিতায় বরণ করা হবে বাংলা নতুন বছর ১৪৩১।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে রমনার বটমূলে অনুশীলন করেন সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র ছায়ানটের শিল্পীরা। ১৭০ জন শিল্পী মঞ্চে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুশীলন করেছেন। মূলত শব্দ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি ব্যবস্থা ও মঞ্চের সঙ্গে শিল্পীদের অভ্যস্ত করাই ছিল গতকালকের এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। তৈরি করা হয়েছে একসঙ্গে সব শিল্পীর বসার মতো করে মঞ্চ। বসানো হয়েছে পাটাতন। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নির্দিষ্ট সীমানাও।

বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছায়ানটের পক্ষ থেকে যাদের প্রবেশের বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে, তারাই শুধু সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য সবাই বর্ষবরণের এ আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে বসেই।

আজ রোববার ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ৩০টি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন ছায়ানটের শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে নগরবাসীও নতুন বছরে বরণ করে নিবেন সুরে সুরে। ভোরের আলো ফুটতেই আহীর ভৈরব রাগে বাঁশির সুরে এবারের নতুন বছর আবাহনের শুরু হবে। পুরো অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে নতুন স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত প্রকৃতির গান, মানবপ্রেম-দেশপ্রেম আর আত্মবোধন-জাগরণের সুরবাণী দিয়ে। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা যায়। রমনার বটমূলে মূল আয়োজনটি হলেও পুরো রমনায় শব্দযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। একটু পরপর বসানো হয়েছে মাইক। যাতে দূর থেকেও শোনা যায় বর্ষবরণের আহ্বান। এদিকে রমনার বটমূলের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে সেখানে আছেন র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। পুরো এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। আছে ডগ স্কোয়াডও।

দেশের অন্যতম প্রধান সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র ও সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছায়ানটের আয়োজনে বর্ষবরণের সংগীতানুষ্ঠান হয়ে আসছে ১৯৬৭ সাল থেকে। এরপর কেবল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অনুষ্ঠান হয়নি। করোনা মহামারির সময় দুই বছর হয়েছে অনলাইনে। তাছাড়া কখনও রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন বাদ পড়েনি।

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন

বাংলার শিরোনাম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ সংবাদ