ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২

চলছে দু’দিনের ধর্মঘট, বিচ্ছিন্ন বরিশাল

চলছে দু’দিনের ধর্মঘট, বিচ্ছিন্ন বরিশাল

মহাসড়কে অবৈধ যান বন্ধসহ বেশ কয়েকটি দাবি আদায়ে বরিশালে শুরু হয়েছে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) থেকে বরিশাল-ভোলা রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকার পর শুক্রবার (৪ নভেম্বর) থেকে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মাইক্রোবাস, স্পিডবোট, নৌযান ও ছোট-বড় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় সারাদেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো বরিশাল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার থেকে ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয় নৌযান চলাচল। বরিশাল বান্দ রোডের নৌবন্দর (লঞ্চঘাট) ঘুরে দেখা যায়, বন্দর অনেকটাই নীরব। আগের মত হাঁকডাক নেই বললেই চলে। অভ্যন্তরীণ লঞ্চগুলো সব ঘাটে ভেড়ানো। হঠাৎ করে নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এমভি সুপার সনিক-৩-এর মাস্টার আলী আকবর জানান, লঞ্চ মালিকের নির্দেশেই তারা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে।

বরিশালের অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য কামরুল ইসলাম পান্না জানান, ভোলা ঘাটের ইজারাদাররা লঞ্চ বন্ধ করে দেয়ায় অভ্যন্তরীণ ৩২টি লঞ্চের অধিকাংশই চলছে না।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘ওপরের নির্দেশেই’ মালিক সমিতির এই অলিখিত ধর্মঘট।

বরিশাল জেলা ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নান্টু জানান, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শুক্র ও শনিবার তারা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ভাড়া দিচ্ছেন না। ফলে অঘোষিতভাবে আজ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চলাচলও।

তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, একটি সংগঠন রাজনৈতিক স্বার্থে তিন চাকার যানবাহন ধর্মঘট আহ্বান করেছে। এ ধর্মঘটের সঙ্গে শ্রমিক-স্বার্থ জড়িত নেই। তাই চালকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা ধর্মঘটে যাবেন না। কিন্তু সরকার সমর্থিত লোকজন বিভিন্ন গ্যারেজে গিয়ে শুক্র ও শনিবার গাড়ি না চালানোর জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

হঠাৎ লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরিশালে আটকা পড়েছে ঢাকাগামী অনেক মানুষ। লঞ্চ, যানবাহন না থাকায় তারা ঢাকা ফিরতে পারছে না।

অফিসের কাজে বরিশালে যাওয়া এক চাকুরিজীবি জানান, লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বরিশালে আটকা পড়েছেন। সঠিক সময়ে অফিসে পুনরায় যোগ দিতে না পারলে চাকরি নিয়ে টানাটানি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন তিনি।

ইসরাফিল হোসেন নামের আরেক যাত্রী জানান, ভোলা থেকে লঞ্চ না ছাড়ায় বাড়িতে যেতে পারছেন না তিনি। ফলে বাধ্য হয়েই বরিশালে অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করেই বরিশালের এই পরিবহণ ধর্মঘট।

অনেকটা সাদামাটাভাবেই আর দশটা সমাবেশের মতো বিভিন্ন দাবিতে সরকারবিরোধী এ আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রাম দিয়ে। তবে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে একে একে ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এবার বরিশালের বিধিনিষেধ সব বিভাগকেই ছাপিয়ে গেছে।

এদিকে গণসমাবেশের দুদিন আগে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীর আগমন ও মিছিল-স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধু উদ্যান। দুপুরের পর থেকে বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসে জমায়েত হন উদ্যানে। সন্ধ্যায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। সেখানেই চলে রান্নার আয়োজন, রাতে তারা থাকেনও সেখানে।

গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির দলনেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, আওয়ামী লীগের অপকৌশলের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্টা জবাব দিতে দু’দিন আগে থেকেই মাঠে আসছেন। এখনও জনতার মূল ঢল নামেনি।

বিএনপির বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, আওয়ামী লীগ সংঘাত-সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং বিএনপি সেই সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা দল। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে কাল্পনিক সব অভিযোগ তুলে মাঠ গরম করছে বিএনপি।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেছেন, যাদের নামে ওয়ারেন্ট আছে, পুলিশ নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের বাড়িতে অভিযানে যাচ্ছে। বিএনপির সমাবেশ টার্গেট করে পুলিশ কারও বাড়িতে যায়নি।

বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সমাবেশের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে তাহলে পুলিশের তরফ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি করতে চাইলে নগর পুলিশ সব অপচেষ্টা প্রতিরোধ করবে।

মতামত দিন