প্রচ্ছদ » জাতীয় » গুলিতে নিহত মিনারের মরদেহ ফেরত দিচ্ছে না বিএসএফ

গুলিতে নিহত মিনারের মরদেহ ফেরত দিচ্ছে না বিএসএফ

গুলিতে নিহত মিনারের মরদেহ ফেরত দিচ্ছে না বিএসএফ

দিনাজপুর সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মিনহাজুর ইসলাম মিনারের মরদেহ চার দিনেও বিজিবির কাছে হস্তান্তর বা মরদেহ গ্রহণের এখনও কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলমগীর কবীর রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

লে. কর্নেল আলমগীর কবীর জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিজিবির আহ্বানে বিএসএফ ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ১৯৬-এর অন্তর্গত কুমারগঞ্জ থানার হরিহরপুর বিএসএফ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে মরদেহ শনাক্তের জন্য আহ্বান জানানো হয়। বিএসএফের আহ্বানে বাংলাদেশের ফুলবাড়ীর ২৯ বিজিবির দাইনুর ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার আনিসুর রহমান আট সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত হন।

সেখানে বিএসএফের গুলিতে নিহত মিনার বাবুর বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও তার বড় ভাই মোরশেদুর রহমান মোবাইলে মরদেহের ছবি দেখে মিনারকে শনাক্ত করেন। পরে বিএসএফ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য বিজিবিকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।

এদিকে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সীমান্তের ওই এলাকায় নোম্যান্স ল্যান্ডে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ শনাক্ত করা হলেও রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে মরদেহ গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার এবং বিজিবির সদর দফতরকে সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে বিজিবির সূত্রটি নিশ্চিত করে। অধিনায়ক লে. কর্নেল আলমগীর কবীর জানান, বিএসএফের কারণে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে মিনারের নিহতের ঘটনার পর থেকে তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন ও মা শোকে কাতর হয়ে শয্যাশায়ী।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত ১১টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্ত এলাকার ৩১৪ মেইন পিলারের সাব পিলার ৭ থেকে ৩০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় মিনহাজুর রহমান মিনার। মিনার বাবু সদর উপজেলার ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের খানপুর ভিতরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। সে খানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে মিনার বাবুসহ ৫-৬ জন কচ্ছপের শুঁটকি আনার জন্য ভারতীয় সীমান্ত এলাকা অতিক্রমকালে বিএসএফের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মিনার বাবু নিহত হয়। বিএসএফ তার মরদেহ নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে ৮ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তাদের হেফাজতে রেখেছে।

মতামত দিন