শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

গুলশানে স্পার নামে চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার

গুলশানে স্পার নামে চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার

‘আওয়ার থেরাপিস্ট ইজ ইয়াং…অ্যান্ড সো…’। বাংলায়, ‘আমাদের থেরাপিস্টরা তরুণ এবং খুব আকর্ষণীয়’। রাজধানীর গুলশানের একটি স্পা সেন্টারের প্রিন্ট বিজ্ঞাপন এটি। নিজেদের ফেসবুক পেইজে স্পন্সর বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণা এমন!

বিজ্ঞাপনটিতে গ্রাহকদের দুই ধরনের ম্যাসেজ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখা আছে, ‘উই হ্যাভ নিউ ফোর গার্লস’। ম্যাসেজ পার্লারের এমন বিজ্ঞাপনে ম্যাসেজ ছাড়াও স্পষ্টভাবে অন্যকিছুর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে! ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, বিজ্ঞাপনে যে ম্যাসেজের কথা উল্লেখ রয়েছে তা শরীরের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর অংশকে নির্দেশ করে। পরেরটি তার চেয়েও ভয়ংকর।

শুলশানসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় এমন ডজনখানেক স্পা সেন্টার অশ্লীল বিজ্ঞাপন আর মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে ম্যাসেজের কাজ চালাচ্ছে। অথচ তাদের কাছে নেই কোনো বৈধ কাগজ বা ট্রেড লাইসেন্স। সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে হোটেল, বিউটি পার্লার, সেলুন আর ব্যায়ামাগারের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে এ ব্যবসা, চলছে অশ্লীলতা।

গুলশানের ১৩০ নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর বাড়ির ৩য় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রসাশনের নাকের ডগায় রাবেয়া আক্তার ওরফে মেঘলা নামের এক নারী অবৈধ দেহ ও মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে এবং পাশাপাশি গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য রেখেছেন এস্কর্ট সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে তাহের হোসেন পাপু নামের একজন।

পরিচয় গোপন করে সেবাগ্রহীতা সেজে মেঘলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে, থানা পুলিশ ঠিক থাকলেই চলবে এবং প্রায় ১০ বছর ধরে এ ব্যবসা আছি, নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা নেই। গতবছর ১৬ ফেব্রুয়ারি-২০২২ বনানী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের আওতায় অবৈধ পতিতালয় স্থাপন পরিচালনা ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগে রাবেয়া আক্তার ওরফে মেঘলার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবার নতুন করে গুলশানে মাদক ও দেহ ব্যবসা শুরু করে সে।

সুলতান ওরফে সুমনা নামের এক নারী প্রশাসনের নাগের ডগায় চালাচ্ছে অবৈধ স্পা-পার্লার ও মাদক ব্যবসা। ওই সময়ের গোপনে ছবি বা ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা দিয়ে পরবর্তীতে ব্লাকমেইলিং করার ঘটনাও রয়েছে। এক্ষেত্রে বাঙালি তরুণী ছাড়াও থাই, নেপালি তরুণীদেরও ব্যবহার করার তথ্য রয়েছে।

এদিকে, গুলশানে রোড়-১৩১ নম্বর সড়কে খুশবু রেস্টুরেন্ট এর ওপরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারদের থেকে জানা যায়, আয়েশা সিদ্দিকা লাভলী নামের এক নারী ১০-১২ জন নারী দিয়ে বডি ম্যাসেজ পার্লার শুরু করেছেন। বয়স ছাড়াও ম্যাসেজে পারদর্শী ও অপারদর্শীদের আলাদা ক্যাটাগরি রয়েছে। রয়েছে ‘ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া’ নামে মেয়েদের প্রলোভন।

ঢাকা মহানগরীতে প্রকাশ্যে ঠিক কতো সংখ্যক স্পা-পার্লার রয়েছে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা নেই কারোই! সিটি করপোরেশন থেকে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসার’ লাইসেন্স নিয়ে এসব অভিজাত এলাকায় কেবল দেহব্যবসা নয়, মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে।

এই বিষয়ে গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল আল মাসুম বলেন, এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা কাউকে চালাতে দেওয়া হবে না। আমরা তালিকা তৈরি করছি। তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন

বাংলার শিরোনাম ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ সংবাদ