
নিহত বৈশাখী। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে আদর্শনগর এলাকায় মাদক মামলার আসামি এক নারীকে ধরতে গিয়ে ফিরে আসে পুলিশ। ওই নারীকে আটক করতে গেলে বাধা দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয় তার কিশোরী মেয়ে। একপর্যায়ে সে বাসার একটি কক্ষে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পল্লবী থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, পল্লবীর আদর্শনগরের ২১ নম্বরের এক বাসায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখান থেকে মাদকসহ চোরাকারবারের অভিযোগে লাভলী নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এতে বাধা দেয় ওই নারীর কিশোরী মেয়ে বৈশাখী। পুলিশের হাত থেকে মাকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে বাসার ভেতর ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে।
নিহত বৈশাখীর মামা মো. সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বোন লাভলীর বিরুদ্ধে গাঁজার ব্যবসার অভিযোগ করে পুলিশ। থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগে পল্লবী থানার পাঁচ পুলিশ ও তিন-চারজন সোর্স ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় লাভলীকে পুলিশ মারধর করে। এ সময় আমার ভাগনি বৈশাখী তার মাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে আত্মহত্যার হুমকি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশের রুমে পুলিশ ভাগনিকে আটকালে ওই রুমের মধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ওই পাঁচ পুলিশকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে থানায় খবর দেয়। পরে থানা থেকে ৫০-৬০ জন পুলিশ এসে এলাকার লোকজনকে মারধর করে অভিযানে আসা পাঁচ পুলিশকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) জসীম উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘পল্লবী থানার একটি টিম মাদক উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যায়। লাভলী নামের এক নারীর কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে নিয়ে বাসা থেকে নেমেও আসতে চায় পুলিশ। এ সময় ওই নারীর মেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পুলিশকে বাধা দেয়।’
মিরপুর বিভাগের ডিসি বলেন, ‘একপর্যায়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। পরে এলাকাবাসী ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। সেই ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে আছে। এ ছাড়া লাভলীর কাছে যে মাদক উদ্ধারের অভিযান সেই ফুটেজটাও আছে। এরপরেও একটি কথা ডালপালা গজিয়েছে। এ জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাভলীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। নিহতের বাবা তার মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়ে একটি ইউডি মামলা করবেন। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও একটি মামলা হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত ওই কিশোরীর লাশ এখনো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই নারীকেও আটক করেনি পুলিশ। বর্তমানে তিনি বাসায় অবস্থান করছেন।


